একটু ভাবো তো, আমরা রোজ রোজ চলাফেরার পথে কত বিভিন্ন প্রকার মানুষ জনের সাথে মেলামেশা করি!

তাদের মধ্যে কেউ চাকরি করেন। আবার কেউ বা ব্যবসা বানিজ্য করে সংসার চালান।

কিন্তু, একদম প্রাথমিক স্তরে যদি ভেবে দেখো, তাহলে দেখবে সারা মাস ধরে আমরা যে অক্লান্ত পরিশ্রম করি তা সবটাই মাসের শেষের মাইনের দিকে তাকিয়ে। আমরা সবাই চেষ্টা করছি একমাস-একমাস করে আমাদের পরিবারটিকে ভালভাবে চালিয়ে নিয়ে যেতে।

মাস মাইনে থেকেই আমাদের সংসার খরচা, বাচ্চার পড়াশুনার খরচ, প্রাত্যহিক জীবনের শখ-আহ্লাদ সব কিছুই চলে।

তোমাদের মধ্যে যারা ব্যবসা করো, তাদের অবশ্য নির্দিষ্ট কোন মাইনের ব্যাপার নেই। তাহলেও, তাঁরও দেখবে সংসার চালানোর ক্ষেত্রে একমাস-একমাস করেই হিসেব করে চলে।

Finance নিয়ে যারা পড়াশুনা করেন, তাদের ভাষায় একে বলে monthly budgeting। অর্থাৎ, মাসিক আর্থিক পরিকল্পনা।

যাই হোক, ওসব কঠিন কঠিন শব্দ নিয়ে আমার আপনার ভেবে কাজ নেই। বরঞ্চ, আমরা দেখি, মাসিক হিসেবের মতই আমরা আমাদের গোটা জীবনের পরিকল্পনাটাই আগাম করে রাখতে পারি কিনা?

কি লাভ এত আগে থেকে এসব ভেবে?

এই প্রশ্নের উত্তর টা আমি একটু পরে দিচ্ছি। আগে আমার একটি প্রশ্নের জবাব দাও-

তোমারর স্কুল জীবনের কথা মনে আছে?

মনে পড়লে দেখবে, সব স্কুলেই বা ক্লাসেই দুধরনের ছাত্র/ছাত্রী থাকে। প্রথম দলের ছাত্ররা তাদের সব হোমওয়ার্ক সঠিক সময়েই করে। এরা সারা বছর ধরে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়।

আর, দ্বিতীয় দলের ছাত্ররা সারা বছর ফাঁকি মেরে খালি পরীক্ষার আগে কিছুদিন পরে পরীক্ষায় বসে।

বলো তো কাদের রেজাল্ট ভালো হয়? কোন দলের ছাত্ররা জীবনে বেশী প্রতিষ্ঠিত হয়?

অবশ্যই প্রথম দলের ছাত্ররা!

আমাকে-তোমাকে জীবনে এরকম অনেক পরীক্ষা দিতে হয়-

  • কখনও হঠাৎ আমাদের কোন পরিজন অসুস্থ হন।
  • আবার কখনও কারও সন্তান জীবনে কোন বড় সুযোগ পায়।

-ইত্যাদি।

বলো তো, উপরের কোন ক্ষেত্রেই কি তুমি চাইবে যে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তোমার পরিজন সঠিক চিকিৎসা বা তোমার সন্তান তার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হোক?

নিশ্চই না। তাই তো?

তাহলে শেষ মুহূর্তের জন্যে সবকিছু ফেলে না রেখে এখন থেকেই অল্প অল্প করে প্রস্তুত হও না!

এখন থেকে কি কি বিষয়ের জন্য প্রস্তুতি নেবে?

ভবিষ্যতের কথা আমরা কেউই জানি না।

তাই বাছাবাছি না করে, ভবিষ্যতে যা-যা কিছু ঘটতে পারে, তার সব কিছুর জন্যই প্রস্তুতি নেব।

যেমন-

  1. ছেলে-মেয়ের পড়াশুনা বা বিয়ের জন্য কিভাবে সঞ্চয় করবে?
  2. নিজেদের ও বয়স্ক বাবা-মায়ের জন্য ভালো চিকিৎসার বন্দোবস্ত কিভাবে করবে?
  3. ঝুঁকিহীন, শান্তির রিটায়ার্ড জীবন কিভাবে কাটাবে?

– ইত্যাদি।

অতএব,

কোন দলে নাম লেখাবে? প্রথম না দ্বিতীয়?নীচে মন্তব্য করে আমাকে জানাও।

আমি কিন্তু প্রথম দলে নাম লিখিয়ে ফেলেছি। তুমিও এস!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।