বাবা ও স্বামী দুজনেই ভালো রোজগার করেন৷

আমি নিজেও চাকরী করি৷তাই, টাকা জমাতে কোনদিনই আগ্রহ বোধ করিনি।

আমরা যারা বাবা মায়ের একমাএ সন্তান, তারা বোধহয় এরকমই ভাবি। আমিও তাই ভাবতাম৷

তাই কোন কথা না ভেবে বেশ শপিং,সিনেমা নিয়ে দারুন কাটাতাম৷ যাকে বলে ফুল এনজয়৷

কিন্তু বাধ সাধল আমাদের স্বপ্ন৷ একটা নিজশ্ব ফ্লাটের স্বপ্ন।

আমরা বাঙালীরা সবাই একটা সুন্দর বাড়ির স্বপ্ন দেখি৷ আমরাও তাই দেখতাম। ‘আমরা’ মানে, আমি আর আমার স্বামী।

আর, আমি স্বপ্ন দেখে ভুলে যাই না। সেটাকে সফল করতে উঠেপড়ে লেগে পরি। এক্ষেত্রেও তাই হল।

ফ্ল্যাটের জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু হল। কিছুদিন পর পেয়েও গেলাম। ১২৫০ বর্গফুটের ৩ টে বেডরুমের একটা ফ্ল্যাট, দামটাও মোটামুটি সাধ্যের মধ্যেই মনে হল। তাও আবার অফিসের কাছাকাছি। একদম স্বপ্নের বাড়ি যাকে বলে।

তাই অনেক ঝুঁকি নিয়ে বেশী চিন্তা ভাবনা না করে কিনে ফেললাম। ভীষন আনন্দ৷নিজেরা  ভাবতাম, মাএ ৩০ বছর বয়সে একটি বড় অ্যাসেট করেছি৷

সাধের বাড়িতে বন্দি

সাধের বাড়িতে বন্দি

ভুল ভাঙল মাস তিনেক পর

ফ্ল্যাট টা কেনার জন্য আমরা দুজন ব্যাঙ্ক থেকে বেশ বড় অঙ্কের লোন করেছিলাম। আমাদের ধারনা ছিল, দুজনের যা মাইনে তাতে লোনের ইএমআই দেবার পরেও আমাদের আরাম সে চলে যাবে। কিন্তু, বাস্তবে দেখলাম সেটা হচ্ছে না।

নতুন বাড়ি করার পর নানান ছোট খাটো মেরামত, সাজানোগোছান এসব করতে হয়। তার ওপর, প্রত্যেক মাসের ১০ তারিখে খাও বা না খাও ইমাইয়ের টাকা ব্যাঙ্কে জমা দিতে হবে৷ এসব মিলিয়ে দেখলাম মাসের ১৫২০ তারিখের পর থেকেই হাত খালি হয়ে যাচ্ছে।

তাই ঠিক করলাম নো শপিং,নো সিনেমা৷

নো শপি্‌ং, নো এনজয়, সব বন্ধ

নো শপিং, নো এনজয়, সব বন্ধ

ক্রেডিট কার্ড গুলো আলমারিতে তুলে রেখে দিলাম। সঙ্গে না থাকলে, চাইলেও খরচ করতে পারব না।

সব রকম অতিরিক্ত খরচা বন্ধ করলাম। জীবনে প্রথমবার টাকা জমাতে মন দিলাম। তাতে ফলও পেলাম। আগের তুলনায় সহজ হল সংসার চালান সহজ হল।

কিন্তু আমি সন্তুষ্ট হতে পারলাম না।

কিভাবে ভবিষ্যতেও এই কঠিন সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায় তা নিয়ে অনেক পড়াশুনা করতে লাগলাম । অনেক সেমিনারেও গেলাম৷ তার মধ্যে সবচেয়ে ভালো লাগলো আশাল যৌহরি আর পাত্তু স্যারের কথা৷

 

যাই হোক, ধীরে ধীরে আমি বুঝতে পারলাম যে

লোন হল এমনই একটি টোপ যা তোমাকে সেই সমস্ত জিনিসও কিনতে বাধ্য করে যেগুলো তোমার সাধ্যের বাইরে।

একটা উদাহরন দিই

তুমি কি ৫ তলা বাড়ির ছাদ থেকে ঝাঁপ দিতে পারবে?

না।

কারন, এটা তোমার সাধ্যের বাইরে।

কিন্তু, তোমাকেই যদি এমন কোন মাদক দ্রব্য খাওয়ানো হয় যা তোমাকে ভাবতে বাধ্য করে যে তুমি ৫ তলা উঁচু বাড়ির ছাদ থেকেও ঝাঁপ দিতে পারো?

তাহলে কিন্তু, সেই মাদকের প্রভাবে, তুমি ঝাঁপ দেবে।

লোন হল এরকমই একটি আর্থিক মাদক।

আমরাও এই ভুলটাই করেছিলাম। আমরা আমাদের সম্পূর্ণ মাইনে ধরে হিসেব করেছিলাম আমরা কতটা লোন নিতে পারি। আর এই লোনের পরিমাণটাকেই ভেবে নিয়েছিলাম আমাদের বাড়ি কেনার বাজেট।

তাহলে কি লোন নেওয়া যাবে না?

নিশ্চই নেওয়া যাবে।

কিন্তু, যেকোনো লোন করার আগে নিজেকে ২ টি প্রশ্ন করো

  • যে জিনিসটি কেনার জন্য লোন করছ সেটি কি  তোমার ভীষণ প্রয়োজন ? ওটি ছাড়া কী একেবারেই চলবে না ?
  • লোনের ইআমআই শোধ করতে তোমার সত্যিই কোন সমস্যা হবে না তো ?

যদি উপরের ২ টি প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলেই তুমি লোন নিতে পারো।

এই ২ টি প্রশ্ন যেমন হোম লোনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনি কার লোন, ক্রেডিট কার্ড বা অনান্য ফিনান্স কার্ড সব কিছুর জন্যই প্রযোজ্য।

আর কি কি ভুল তুমি করতে পারো?

আমাদের নিজেদের ভুল শুধরোতে গিয়ে আমি কিছু ব্যাপার পরিষ্কার বুঝতে পারলাম।

আমি দেখলাম যে আমরা যে ভুলগুলো করেছি সেগুলো খুবই প্রচলিত। শুধু আমরা নয়, আরও অনেকেই প্রতিদিন এই ভুলগুলো করে চলেছে। হয়ত তুমিও করছ।

কিন্তু, বুঝতে পারছ না।কারন, আমাদের মত তোমাকেও কেউ সঠিক ভাবে শিখিয়ে দেয়নি কিভাবে তোমার জীবনের আর্থিক পরিকল্পনা করা উচিত।

আমাদের দেশে হাইস্কুল থেকে শুরু করে কলেজ, কোথাও সিলেবাসে আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের আর্থিক পরিকল্পনা  বা সঠিক ভাবে টাকা জমাতে শেখান হয় না।

অথচ ভাবো, পড়াশুনা শেষ করে চাকরী বা ব্যবসা করতে শুরু করার পর এই বিদ্যেটিই কিন্তু সবচেয়ে বেশী করে দরকার পড়ে।

যাই হোক, এই সমস্ত ভুলগুলি নিয়ে আমি একটি ছোট লিস্ট করেছি। এই লিস্টটি আমি প্রথমে আমার নিজের জন্যই বানিয়েছিলাম। আজকে তোমাদের সকলের সাথে শেয়ার করছি

  • কম বয়সে বড় অঙ্কের হোম লোন নেওয়া।
  • ক্রেডিট কার্ডের সঠিক ব্যবহার না জানা। ক্রেডিট কার্ড ও বিভিন্ন ফিনান্স কার্ড ব্যবহার করে মোবাইল, জামা কাপড়, টিভি, ফ্রিজ কেনা।
  • সঠিক লাইফ ইনসিওরেন্স পলিসি বাছাই করতে না জানা। শুধুমাত্র এজেন্টের কথা মত ট্যাক্স বাঁচাতে কিংবা ভবিষ্যতের জন্য টাকা জমাতে একদম ভুল লাইফ ইনসিওরেন্স কেনা।
  • হেলথ ইনসিওরেন্স বা স্বাস্থ্য বীমা কেনা নিয়ে গাফিলতি করা।
  • অবশর জীবনের জন্য টাকা জমাতে দেরি করা।
  • শেয়ার মার্কেট কে কুষ্ঠ রোগের মত এড়িয়ে চলা।
  • একাধিক আয়ের পথ তৈরি না করা।

তাহলে, কিভাবে এগোবে ?

সবকিছুরই একটা প্ল্যানিং থাকা দরকার৷

আর আমার বিশ্বাস, নিজের থেকে ভালো প্ল্যানিং কেউ করতে পারে না৷

আমি তোমাদের দেখাব কিভাবে নিজের জীবনের আর্থিক প্ল্যানিং করবে।

মানে, কবে কত টাকা খরচা করবে তা আজ থেকে কিভাবে ভাববে৷আর সেই অনুযায়ী কিভাবে টাকা রাখবে৷

মাঝে মাঝে  আমি এখনও ভাবি, ইস্ আরও আগে যদি জানতাম! তাহলে এখন অনেক বেশী মজবুত হত আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনটা। আমি চাই না আমাদের মত ভুল তোমারও কর।

যাতে তোমরা নিজেদের প্ল্যানিং নিজেরা করতে পারো, আর যাতে তোমাদের স্বপ্নগুলো সফল করতে পারো, সেইজন্যেই এই মারবিয়াস মানি৷

এখানে আমি নিজে যা যা শিখেছি বা শিখব সেই সবকিছুই তোমাদের শেখাব।

 

মারবিয়াস মানি তে তোমরা শিখবে —

) তোমার লক্ষ্য কিভাবে স্থির করবে ? মানে তুমি  তোমার কষ্টের পয়সা জমিয়ে কি করতে চাও তা কিভাবে বেঁছে নেবে?

) সেটা তুমি কতদিনের মধ্যে তা পূরণ করতে চাও?

) সেই সময় তার মূল্য বা কত হবে?

) তাহলে এখন থেকে কত করে টাকা জমাতে হবে সেই সময় কোন অসুবিধা না হয়?

) স্বপ্নগুলো একটু তাড়াতাড়ি পেতে হলে মাইনের টাকা ছাড়াও অতিরিক্ত আয়ের ব্যাবস্থা করতে হবে৷ সৎ পথে কিভাবে সেটা করা সম্ভব?

তোমাদের সাহায্য চাই

কাজ টা কঠিন ।  তবুও আমি চেষ্টা করছি।

আমার চেষ্টা সফল হবে যদি সত্যই মারবিয়াস মানির মাধ্যমে আমি তোমাদের জীবনে কিছু ভাল পরিবর্তন আনতে পারি।

মারবিয়াস মানির প্রচার করার জন্য তোমাদের সবার সাহায্য চাই। যদি আমার লেখা পরে তমাদের ভাল লেগে থাকে, তাহলে প্লীজ Facebook, Twitter বা WhatsApp -এ বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে আমাকে সাহায্য কোর।

শিগগির আবার দেখা হবে।